দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, অনৈতিক লেনদেন ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। এ নিয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সার ডিলারের লাইসেন্স দেওয়ার নামে অনৈতিক লেনদেনের চেষ্টা চলছে। তিনি লেখেন, সারের লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন মানুষ টাকা দিতে চাইলেও তিনি সেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঈশ্বরগঞ্জে তিনি কোনো অনৈতিক সুবিধা নেন না এবং ভবিষ্যতেও নেবেন না বলে দাবি করেন।
সরিষা ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তার দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাইরে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অর্থ নিয়ে ঘোরাফেরা করা লোকজন লাইসেন্স পেলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য। তার দাবি, কে কোথা থেকে কত শতাংশ টাকা নেন, তা তিনি জানেন। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জে তার মনোনীত কোনো ব্যক্তি সার ডিলারের লাইসেন্স পাবেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, তার দলের নেতাকর্মীরা মামলা ও হামলার শিকার হবেন, আর প্রশাসন টাকার বিনিময়ে সার ডিলারের লাইসেন্স দেবে এটি মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি অভিযানের আগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালানোরও দাবি জানান তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট ময়মনসিংহের ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। এ নিয়োগের জন্য জেলায় প্রায় ১ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ডিলারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শুক্রবার সকালে সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে ময়মনসিংহ জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদিত তালিকায় ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে জিয়া এন্টারপ্রাইজ। জেলা কমিটির সুপারিশে প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল প্রথম স্থানে।
তবে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ হোয়াটসঅ্যাপে উপজেলা থেকে জেলায় পাঠানো একটি তালিকা দেখিয়ে দাবি করেন, সরিষা ইউনিয়নের জন্য ওই তালিকায় দুজনের নাম ছিল। প্রথম স্থানে ছিলেন জিওস্ট্রাক্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের মালিক তাকলিমা আক্তার এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন জিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক জিয়াউর রহমান ভূঁইয়া।
সংসদ সদস্যের দাবি, অন্যান্য এলাকায় তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ব্যক্তিরা ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেলেও সরিষা ইউনিয়নে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকা জেলা প্রশাসক পরিবর্তন করেছেন এবং এ প্রক্রিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারও ভূমিকা ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জিয়াউর রহমান নিজেকে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য বলে দাবি করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, আবেদন করার পর তিনি সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে কাউকে ঘুষ দেননি এবং জেলা প্রশাসনের কারও সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, তিনি শুধু জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলেন, তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন নেই বলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তি তার কাছে অভিযোগ করেছেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক ছিল। বিষয়টি সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, যিনি নিয়োগ পাননি, তার নিশ্চয়ই কোনো ঘাটতি ছিল। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তার ঘাটতি কী ছিল, তা দেখার পরামর্শ দেন তিনি। নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালার বাইরে কিছু করা হয়নি বলেও দাবি করেন জেলা প্রশাসক। তার ভাষ্য, এ বিষয়ে যে কেউ সংক্ষুব্ধ হতে পারেন।
যে আই